ম্যারাথন নিয়ে জানা-অজানা কথা

by

in
সাম্প্রতিক কিছু ম্যারাথন ইভেন্টে আমাদের কয়েকজন LMC মেম্বার এর অংশগ্রহণ, মেডেল অর্জন এবং ফটোসেশন দেখে অনেকের মাঝে কৌতুহল তৈরী হয়েছে বিস্তারিত জানার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ম্যারাথন নিয়ে যে প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হয়েছি সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত লিখব ২ পর্বের এই সিরিজে।
 
ম্যারাথন কথন – পর্ব ১
যেহেতু ম্যারাথন ইভেন্ট আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এখনো অনেকটা নতুন তাই এটা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষের ধারণা না থাকাটাই স্বাভাবিক। গত কয়েক বছরে এটি বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। সাথে বেড়েছে এটি নিয়ে কৌতুহল ও জানার আগ্রহ। চলুন জেনে আসি ম্যারাথন নিয়ে কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর।
 
>> ম্যারাথনে কয় কিলোমিটার অতিক্রম করতে হয়?
ম্যারাথন মূলত দুই ধরণের হয়: ফুল ম্যারাথন (৪২.২ কিলোমিটার) এবং হাফ ম্যারাথন (২১.১ কিলোমিটার)। তাছাড়া ১০ কিলোমিটার ও ৭.৫ কিলোমিটার এর কিছু শর্ট ম্যারাথন ক্যাটাগরী থাকে।
আর কিছু এক্সট্রিম ম্যারাথন হয় ৫০, ১০০ ও ১৫০ কিলোমিটার এর যেগুলোকে আল্ট্রা ম্যারাথন বলে।
তবে একটি ইভেন্টে সাধারণত ২ টির বেশি ক্যাটাগরী থাকে না। বাংলাদেশে হাফ ম্যারাথন ইভেন্ট সবচেয়ে বেশি অনুষ্ঠিত হয়।
 
>> ম্যারাথনে কি শুধু একটানা দৌঁড়াতে হয়?
না। ম্যারাথনে হাঁটা, দাঁড়ানো এমনকি বসাও যায়!
 
>> তাহলে কি পুরোটা পথ হেঁটে অতিক্রম করা যাবে কি?
হাঁ যাবে আপনি যদি প্রতি কিলোমিটার সর্বোচ্চ ১০ মিনিটে অতিক্রম করতে পারেন যদিও বাস্তবে তা অসম্ভব কারণ একজন মানুষের স্বাভাবিক হাঁটার গতি ১৫ থেকে ১৮ মিনিট পার কিলোমিটার। আর খুব দ্রুত হাঁটলে ১২মিনিটে এক কিলোমিটার যাওয়া যাবে বড়জোর। তার মানে নির্দিষ্ট সময়ে ফিনিশ করতে হলে দৌঁড় কম বেশি লাগবে।
 
>> সবাই কি অংশগ্রহণ করতে পারে?
যদিও অংশগ্রহণের জন্য কোন মেডিকেল টেস্ট নেই তবে প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতা ব্যাতিত অংশগ্রহণ সবসময় নিরুৎসাহিত করা হয়। তাছাড়া যাদের বড় ধরণের হার্টের অসুস্থতা, উচ্চ রক্তচাপ এগুলো রয়েছে তাদেরকে ডাক্তারী পরামর্শ ছাড়া অংশগ্রহণ করা উচিত নয়।
 
>> অংশগ্রহণকারী সবাই কি মেডেল পায়?
না। যারা নির্ধারিত সময়ে ফিনিশ করতে পারে তারাই শুধু মেডেল পায়।
 
>> সবাই কি চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হওয়ার জন্য দৌঁড়ায়?
ম্যারাথনের সবচেয়ে মজার বিষয় হল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫% চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হওয়ার টার্গেট নিয়ে দৌঁড়ায় বাকী ৯৫% কিন্তু দৌঁড়ায় উপভোগ করতে ও নিজের সাথে প্রতিযোগিতা করতে।
আর ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য ভ্রমণ। যেহেতু বেশিরভাগ ম্যারাথনগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে হয়ে থাকে তাই অংশগ্রহণকারীরা ভ্রমণের এই সুযোগগুলো ভালই কাজে লাগায়।
 
>> উপভোগ না হয় বুঝলাম কিন্তু নিজের সাথে প্রতিযোগিতা সেটা আবার কেমন?
অংশগ্রহণকারীদের রেস শুরুর আগে নিজস্ব একটা টার্গেট থাকে কত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করবে। যারা পারে তারা মেডেলের পাশাপাশি জিতে যায় নিজের সাথে।
 
>> সবি তো বুঝলাম… এখন আমারও ইচ্ছে হচ্ছে আপনাদের মত ম্যারাথন উপভোগ করতে, মেডেল নিয়ে ফটোসেশন করতে আর নিজের সাথে জিততে। কি করতে পারি?
ভাই আপনি মেডেল নিয়ে আমাদের সুন্দর ছবিগুলো দেখেছেন কিন্তু হয়ত দেখেননি আমাদের অনেকগুলো সকালের ঘাম ঝরানো চেহারাগুলো অথবা ঘুম, খাওয়া নিয়ন্ত্রণ রাখার দৃঢ় মানসিকতা।
এখন আপনি যা করতে পারেন তা হল আগামী পর্ব পাবলিশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা কারণ আগামী পর্বে লিখব ম্যারাথনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে এবং একটি ছোট সুসংবাদ ম্যারাথনে আগ্রহীদের জন্য ইনশাআল্লাহ

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *